প্রেম, ফুল আর বজ্র এই তিন মিলে-বিদ্রোহী নজরুল

0
35

সর্বশেষ আপডেট জানুয়ারি ৩১, ২০২২ | ইমরান

নজরুল বিদ্রোহী কবি। নজরুল বিপ্লবী কবি। তিনি সর্বদাই অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন, করেছেন প্রতিবাদ এবং হয়েছেন সোচ্ছার। শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠ ছিল সরব।
তার কবিতাগুলো ছিল পরাধীন ভারতের অবদমিত জনগণের জন্য সঞ্জীবনী মন্ত্র। তিনি চির বঞ্চিত ও নিপীড়িত জনগণকে শোষন-শাসনের শৃঙ্খল হতে মুক্ত করতে চাইলেন। তিনি রচনা করলেন শিকল ভাঙার গান-
“কারার ঐ লৌহ কপাট
ভেঙে ফেল, করবে লোপাট
রক্ত জমাট
শিকল-পূজার পাষাণ-বেদী।”
তিনি তাঁর অগ্নিবীণা কাব্যে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করলেন-
“আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস,
আমি আপনারে ছাড়া করিনা কাহারে কুর্নিশ।”
বিদ্রোহের বাণী সংবলিত তাঁর অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশি, সর্বহারা, পরিমনসা প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ্যগুলো অত্যাচার, অবিচার, অনাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ খড়গ অভিযানের সোচ্চার জয়ধ্বনি। তিনি তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় সাহসিকতার সাথে ঘোষণা দেন-
“মহা-বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত,
আমি সেই দিন হব শান্ত
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না…।”
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তাঁর জীবন যেমন বিচিত্র প্রতিভাও তেমন বহুমুখী সৃষ্টি। ২৪ শে মে, ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে, ১১ই জৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে এক পীর বংশে জন্মগ্রহণ করেন। নজরুল ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর বাবাকে হারান। তখন নজরুলের বয়স ছিল মাত্র আট বছর। তিনি সংসার চালানোর জন্য মসজিদে ইমামতিও করেন। তিনি ১৯১১ খ্রিষ্টব্দে লেটু গ্রুপে যোগ দেন। কিন্তু লেখাপড়ার প্রতি তাঁর ছিল গভীর আগ্রহ। তিনি আসানসোলে চা-রুটির দোকানে বয়ের চাকরি করেছেন। সেখানে পুলিশ ইনস্পেক্টর রফিজউল্লার সাথে পরিচয় ঘটে। তিনি নজরুলকে তাঁর দেশের বাড়ি ময়মনসিংহের কাজীর শিমলায় নিয়ে আসেন এবং দরিরামপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করে দেন। এবং ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুর হাইস্কুলে পড়াশুনা করেন তাঁর স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার জন্য। সরকারি অর্থায়নে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ^বিদ্যালয় নামে একটি উচ্চ মানের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। নজরুল ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে ৪৯ নং বাঙালি প্লাটুনে যোগ দেন। তিনি সৈনিক হিসাবে প্রশিক্ষণের জন্য করাচি চলে যান। সৈনিক হয়েও তিনি বিদ্যাচর্চা ছাড়েন নি। থেকে থাকেনি তাঁর হাতের লেখনি। থেমে থাকেনি তাঁর মনথেকে উত্তলে আসা বিপ্লবের জাগরণী মন্ত্র।
স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের ব্যক্তিগত উদ্যোগে কবিকে ২৪শে মে, ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকায় আনা হয় এবং ধানমন্ডির পুরাতন সড়ক ২৮-এর ৩৩০ বি নং বাড়িটি তাঁর নামে বরাদ্ধ দেওয়া হয়। বর্তমানে ঐ বাড়িটি ‘নজরুল মিউজিয়াম’ নামে পরিচিত। ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক লেখক সম্মেলনে নজরুলকে ‘এঁবংঃ ড়ভ ঐড়হড়ঁৎ’ মর্যাদায় আমন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু তখন তিচি ছিলেন নির্বাক। ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে নজরুলকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং তাঁকে একুশে পদকও দেওয়া হয়। পরিশেষে সবাইকে দু:খের সাগরে ভাসিয়ে ২৯শে আগস্ট ১৯৭৬ সালে ঢাকায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন। তার রচিত গান গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে-‘মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই’। তাই তাঁর পূর্ব ইচ্ছানুযায়ী ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে তাঁকে জাতীয় মর্যাদায় সমাধিস্ত করা হয়।

শাফায়েত জামিল রাজীব
প্রধান বার্তাসম্পাদক
সারাদিন বিডিডটকম

পূর্ববর্তী সংবাদশোক সংবাদ
পরবর্তী সংবাদপাকুন্দিয়ায় ৯ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হলেন যারা

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন