পরিবর্তন হচ্ছে নতুন ডিসির তালিকা

0
40

সর্বশেষ আপডেট জানুয়ারি ১০, ২০২২ | ইমরান

সদ্য ঘোষিত ১১ জন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) তালিকায় পরিবর্তন আসছে। ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা ডিসির তালিকায় ঢুকে যাওয়ার অভিযোগে এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ডিসিদের মাঠে যাওয়ার আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। রোববার এমন দুটি ব্রিফিংয়ে সদ্য ঘোষিত ১১ ডিসির মধ্যে ৯ জন উপস্থিত ছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগের উপসচিব নাফিসা আরেফীনকে নীলফামারীর ডিসি হিসাবে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠায় রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নতুন নিয়োগ পাওয়া ডিসিদের জন্য আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ডাকা হয়নি। এর বাইরে আরেকজন ডিসি ব্রিফিংয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। তবে ওই কর্মকর্তা করোনা পজিটিভ হওয়ায় ব্রিফিংয়ে উপস্থিত থাকতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত বুধবার ১৩ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর মধ্যে ১১ জেলায় নতুন ডিসি ও দুজন বর্তমান ডিসির জেলা পরিবর্তন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিসি নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অনেকে। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রীদের পর্যায় থেকে নাফিসা আরেফীন সম্পর্কে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ আসে। জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শামসুন্নাহার হল ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এ বিষয়ে নাফিসার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের কথা আমার জানা নেই। আমার পর্যায় থেকে সাংবাদিকদের কাছে কোনো বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তাই আপনার প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারছি না।

অন্যদিকে নাফিসা সম্পর্কে প্রশাসনে থাকা তার একাধিক ব্যাচমেট যুগান্তরকে জানিয়েছেন, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে তার মধ্যে কোনো দলীয় পক্ষপাতিত্বের বৈশিষ্ট্য তারা দেখতে পাননি। জনপ্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, নাফিসা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার কাজে বৈশিষ্ট্যে সন্তুষ্ট হয়েই ডিসি পদায়ন করা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক অভিযোগের বিষয়টি তারা মেলাতে পারছেন না। তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, শামসুন্নাহার হলে থাকার সময় ছাত্রলীগের কর্মীদের বিরুদ্ধে মারামারির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনায় তাকে ডিসি নিয়োগ থেকে আপাতত বিরত রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কোনো কর্মকর্তাই নাম প্রকাশ করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাধারণত এ ধরনের বিতর্ক উঠলে সংশ্লিষ্টদের পদায়ন করা হয় না। এর আগে মেহেরপুরের ডিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগে কর্মকর্তা বদল করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

এদিকে রোববার সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিসভা কক্ষে নিয়োগ পেতে যাওয়া ৯ ডিসিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিবরা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এতে স্থানীয় সরকার, জননিরাপত্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাসহ বেশ কয়েকজন সচিব উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম মাঠ প্রশাসন পরিচালনায় সততার সঙ্গে নির্মোহ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই দিন বিকালে মাঠ প্রশাসন পরিচালনায় গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক সম্পর্কিত আরেকটি ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকাল মঙ্গলবার এসব কর্মকর্তার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৃথক ব্রিফিং হওয়ার কথা রয়েছে। বুধ বা বৃহস্পতিবার নতুন এসব কর্মকর্তা ডিসি হিসাবে দায়িত্ব নিতে জেলায় জেলায় যাওয়ার কথা রয়েছে।

পূর্ববর্তী সংবাদ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে-সৈয়দ আশরাফের একটি গল্প
পরবর্তী সংবাদদেশে একনায়কতন্ত্র চলছে

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন