জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন তথ্য-ভাণ্ডার গড়তে চায় সরকার

0
58

সর্বশেষ আপডেট সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১ | ইমরান

জাতীয় পরিচয়পত্র, জনশুমারি ও গৃহগণনার তথ্য সমন্বয়ে উন্নত বিশ্বের আদলে জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন-এনপিআর নামে সমন্বিত তথ্য-ভাণ্ডার গড়ে তুলতে যাচ্ছে সরকার। এই উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

সরকারি সংস্থাটি বলছে, এনপিআর তথ্যভাণ্ডারে শূন্য থেকে শুরু করে প্রত্যেক বয়সী মানুষের তথ্য থাকবে। নির্ভুল করার পাশাপাশি এই তথ্যভান্ডার যেন অন্য কারো হস্তগত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান

এনপিআর-এ একজন মানুষের তথ্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। দেশের সব মানুষের জনতাত্ত্বিক ও বায়োমেট্রিক তথ্যসহ একটি বিশদ তথ্যভাণ্ডার থাকবে জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধনে। প্রতিটি মানুষের বয়স, রক্তের গ্রুপ, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, পেশা, ধর্ম, বর্ণ, পরিবারের সব তথ্য থাকবে জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধনে।

রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এনপিআর নিয়ে এক কর্মশালার আয়োজন করে বিবিএস। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলমসহ অন্যরা।

সরকারের একেকটি দফতর নিজেদের মতো করে দেশের মানুষের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে, যেখানে রয়েছে সমন্বয়ের অভাব। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের স্বচ্ছ ডেটাবেস করার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের। আবার, মানুষের জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে, তালাক, দত্তকসহ বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের দায়িত্ব এতোদিন ছিলো নির্বাচন কমিশনের। এখন তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, এই তথ্যভাণ্ডারের সংগে নাগরিকত্বের সম্পর্ক নেই। তবে, জনসংখ্যা নিবন্ধনে নাগরিকদের নাম-পরিচয়, ভৌগলিক অবস্থান এবং বায়োমেট্রিক ছাপ থাকবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের দেওয়া তথ্যের একটা বাণিজ্যিক মূল্য রয়েছে। সরকার না চাইলেও প্রযুক্তিগত দুর্বলতার কারণে তথ্য পাচার হয়ে যায়, যা খুবই ভয়ংকর। তাই এমনভাবে তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে হবে, যাতে একই তথ্য দিয়ে জনগণ সব ধরনের সেবা পান।

কর্মশালায় পরিকল্পনামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দুজনেই একই তথ্য বিভিন্ন সংস্থার নিজেদের মতো করে সংগ্রহ করার সমালোচনা করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, তথ্য সংগ্রহের দ্বৈততা সবচেয়ে বড় সমস্যা। একই ধরনের তথ্য সরকারের একেক সংস্থা সংরক্ষণ করছে। এতে সময় ও জনগণের অর্থের অপচয় হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, এভাবে আলাদা আলাদা করে মানুষের তথ্য সংগ্রহ না করে সমন্বয় করলে একদিকে যেমন খরচ ও সময় কমবে, একই সংগে তথ্য ব্যবহার উপযোগীও হবে।

তাঁর মতে, খণ্ডিত তথ্য সংগ্রহ না করে জাতীয় ডেটাবেস প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে তথ্যের দ্বৈতকরণ। কেউ এনআইডি তথ্য সংরক্ষণ করছে, কেউ সিভিল রেজিস্ট্রেশন, কেউ খানা জরিপ, কেউ জনশুমারি করছে। অথচ তথ্যের দিক থেকে সবকিছু কাছাকাছি।

দেশে জনসংখ্যা কতো জানতে বিবিএস জনশুমারির কাজে হাত দিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি। এরইমধ্যে আলাদা একটি জরিপের মাধ্যমে ৭২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের প্রতিটি খানার তথ্য সংগ্রহ করেছে বিবিএস। এবার নতুন করে এনপিআর করতে যাচ্ছে সরকারি সংস্থাটি।

এই প্রকল্পের খরচ সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক শাহাদাত হোসেন দেশের প্রথম সারির একটি গণমাধ্যমকে জানান, স্বাধীনতার পর এতো বড় প্রকল্প নেওয়া হয়নি বিবিএসে, যেটা এনপিআর বাস্তবায়নে খরচ হবে। জনশুমারি যদি হয় একটি ফাইল, তাহলে এনপিআর হবে একটা আলমারি।

এনপিআর হয়ে গেলে ভবিষ্যতে আর জনশুমারি করতে হবে না বলেও জানান তিনি।

দিনক্ষণ এখনো ঠিক না হলেও কবে জনসংখ্যা নিবন্ধন শুরু এবং কখন শেষ হবে সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরির তাগিদ দেন মন্ত্রীরা।

পূর্ববর্তী সংবাদনিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তী সংবাদভোটকেন্দ্রে গোলাগুলিতে আ.লীগ নেতাসহ নিহত ২

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন