স্বেচ্ছা শ্রমে সর্ব মহলে প্রশংসনীয় কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নৈশ্য প্রহরী আবদুল কাদির

0
151

সর্বশেষ আপডেট জুলাই ১৭, ২০২১ | ইমরান

দর্পণ ঘোষ, স্টাফ রিপোর্টার :

“মাস্ক পড়ুন, মাস্ক পড়ুন, স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন, সাবান পানি দিয়ে হাত ধৌত করুন, দূরুত্ব বজায় রাখুন, বাড়ির বাহিরে বের হবেন না, আপনি সুস্থ্য থাকলে বাঁচবে আপনার পরিবার” এ কথাগুলো কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারের রাস্তায় ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাড়িয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে নিজের কেনা একটি হ্যান্ড মাইকে স্বাস্থ্যবিধি ও করোনা বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশে প্রচার করছেন কটিয়াদী উপজেলা সাব—রেজিষ্ট্রি অফিসের মাষ্টার রোলে চাকরী করা নৈশ প্রহরী আবদুল কাদির (৫০)। তিনি কটিয়াদী সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের একজন নৈশ প্রহরী। মহামারী করোনার এ ভয়াবহতার মধ্যেও নিজের প্রতি মায়া না করে নিজে থেকে দায়িত্ব নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষকে সচেতন করে যাচ্ছেন। তার এ উদ্যোগকে সকল শ্রেনী পেশার মানুষ স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এই গনসচেতনা মুলক প্রচারণায় এলাকার সকল শ্রেনী পেশার মানুষের কাছে প্রশসংনীয় হয়ে উঠেছেন। আবদুল কাদির একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ। গাড়ী দূর্ঘটনায় তাঁর একটি পা প্রায় অচল। কারো কোন প্রকার সাহায্য সহযোতিা ছাড়াই একা একা পায়ে হেটে এ প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। গত বছর বাংলাদেশে মহামারী করোনা ভাইরাস দেখা দিলে বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর শুনে আবদুল কাদির তাঁর সামান্য বেতনের টাকা থেকে খরচ বাচিয়ে একটি হ্যান্ড মাইক কিনে নিজ উদ্যোগে জনসাধারনকে করোনা ভাইরাস বিষয়ে সচেতন করতে শুরু করেন । আবদুল কাদিরের জন্ম কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার কমলপুর আমলাপাড়ায় মহল্লায়। চার ভাই বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়। লেখাপড়া অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত। পিতা আলতাব আলীর অভাবের সংসারে মা ভৈরব সাব—রেজিস্ট্রি অফিসে কাজ করতেন। সেই সুবাদে তৎ সময়ে কিশোরগঞ্জ জেলা রেজিষ্টার আবদুল আহাদ কটিয়াদী সাব—রেজিস্ট্রি অফিসে মাস্টার রোলে নৈশ্য প্রহরী হিসেবে আবদুল কাদিরকে নিয়োগ প্রদান করেন। পরে স্ত্রী মাহমুদাকেও কটিয়াদী সাব—রেজিস্ট্রি অফিসে মাষ্টার রোলে ঝাড়ুদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আবদুল কাদির ও মাহমুদার সংসারে ১ছেলে ১মেয়ে। ছেলে এসএসসি পাস করার পর অর্থাভাবে আর লেখাপড়ার করতে না পেরে ঘোড়াশাল একটি কারখায় কাজ করে এবং মেয়ে কটিয়াদী সরকারী কলেজে বিএ ১ম বর্ষে অধ্যায়ন করছে। অত্যান্ত স্বল্প বেতনে চাকুরী করে তাহার পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার পরিচালনা করা তাঁর পক্ষে খুবই কষ্টকর। আবদুল কাদিরের মাসিক বেতন ১ হাজার ৮শত টাকা এবং স্ত্রী মাহমুদার বেতন ১ হাজার ৫শত টাকা। যখন যেই সাব— রেজিস্ট্রার আসেন তাদের চা, বিস্কুট, পানিসহ টুকিটাকি কাজের বিনিময়ে আবদুল কাদিরকে সাপ্তাহে আরও ৪/৫শত টাকা এবং দলিল লেখকগণও ৫০/১০০টাকা বকশিস দেয়। এতেই কোন রকমে চলে আবদুল কাদিরের সংসার। স্বল্প বেতনে নৈশ্য প্রহরীর চাকরী করেও দেশের এবং দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসায় নিজে খেয়ে না খেয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষকে তার নিজের টাকায় কেনা হ্যান্ড মাইকে প্রচার করে যাচ্ছেন “মাস্ক পড়ুন, মাস্ক পড়ুন, স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন, সাবান পানি দিয়ে হাত ধৌত করুন, দূরুত্ব বজায় রাখুন, বাড়ির বাহিরে বের হবেন না, আপনি সুস্থ্য থাকলে বাঁচবে আপনার পরিবার” ইত্যাদি বিষয়ে সকল জনসাধারণকে এখনও সজেতন করে যাচ্ছেন আবদুল কাদির। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পিপি পড়ে মুখে মাস্ক ও মাথায় টুপি দিয়ে নিজের টাকায় কেনা কিছু মাস্ক নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারের রাস্তায় ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাড়িয়ে পড়া মহল্লার নারী—পুরুষ, যুবক— যুবতি ছাত্র/ছাত্রীদের এ ধরনের উপদেশ মুলক প্রচার করছেন তিনি। আঃ কাদির বলেন, আমি কটিয়াদী সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের নৈশ প্রহরী। আমি সরকারী দায়িত্ব পালনের পর যতটুকু সময় পাই সেই সময় টুকু বাসায় বসে না থেকে হ্যান্ড মাইকে প্রচার করি মাস্ক পড়ুন, মাস্ক পড়ুন, স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন, সাবান পানি দিয়ে হাত ধৌত করুন, দূরুত্ব বজায় রাখুন, বাড়ির বাহিরে বের হবেন না, আপনি সুস্থ্য থাকলে আপনার পরিবার বাঁচবে এসকল কথা বলে জনগণকে সচেতন করি। দেশের মানুষ ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। মানুষ সতেচন হলেই বাংলাদেশ করোনা মৃক্ত হবে । আবদুল কাদির আরও বলেন, আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ, রেলগাড়ী দূর্ঘটনায় আমার একটি পা প্রায় অচল হয়ে আছে। পায়ে হেটে হেটে যতটুকু পারি মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। আমি সরকারের কাছ থেকে কোন সাহায্য সহযোগিতা পায়নি পায়নি। সরকারী ভাবে কিছু পেলে আরো ভালোভাবে মানুষকে করোনা বিষয়ে সচেতন করতে পারতাম। এই মহামারী করোনা যতদিন থাকবে আমি ততদিন এ প্রচারনা চালিয়ে যাবো। আমি এলাবাসী ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

পূর্ববর্তী সংবাদকিং কোবরা এখন ঈদের বাজারে
পরবর্তী সংবাদবাড়ি ভাড়া ও দোকান ভাড়া মওকুফের দাবিতে প্রতীকি অবস্থান কর্মসূচি

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন