কিশোরগঞ্জের গরু যাবে সারাদেশে

0
80

সর্বশেষ আপডেট জুলাই ৪, ২০২১ | ইমরান

স্টাফ রিপোর্টার: বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা থাকায় কিশোরগঞ্জে চারণভূমির অভাব নেই। সঙ্গে কৃষিপ্রধান অর্থনীতির কারণে এখানে গবাদি পশু পালন হয় ব্যাপক হারে। এবার ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে জেলার চাহিদার চেয়ে বেশি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করেছেন খামারি ও পালনকারীরা। অতিরিক্ত এসব পশু সারাদেশে সরবরাহ করা যাবে বলে সংশ্নিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, কিশোরগঞ্জে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৭৫ হাজার গবাদি পশুর। কিন্তু সারা জেলায় কোরবানিযোগ্য ৮১ হাজার ৩৩৭টি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া রয়েছে। উদ্বৃত্ত ৬ হাজার ৩৩৭টি পশু অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা যাবে।

জেলার ১৮ হাজার ২২১ জন খামারি উৎপাদন করেছেন ৪৭ হাজার ৪৯৭টি ষাঁড়, ৪ হাজার ১০৭টি বলদ, ৯ হাজার ৩৫১টি গাভি, ১ হাজার ২৭৯টি মহিষ, ১৬ হাজার ৪৬টি ছাগল, দুই হাজার ৮৪০টি ভেড়া ও অন্যান্য ১৬২টি। কোরবানির হাটে গবাদি পশুর প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে ৪৭টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণের জন্য ২৩৮ জন কসাই ও ২৫০ জন মৌসুমি কসাইকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ১৩টি অনলাইন কোরবানি পশুর হাট খোলা হয়েছে। প্রতিদিন গবাদি পশুর ছবি আপলোড করা হচ্ছে।

অনলাইনে বিক্রির জন্য খামারিদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এ বছর সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে খড়, ভুসি, কাঁচা ঘাস ও খৈল খাওয়ানোর মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর স্টেরয়েড হরমোন ও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি।

কিশোরগঞ্জের বেশ কয়েকজন খামার মালিক জানান, মূলত কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে লাভের আশায় তারা সারা বছর গরু-ছাগল লালন-পালনে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু করোনার কারণে এখন পর্যন্ত খামারে তেমন পাইকারের আগমন দেখা যাচ্ছে না। অথচ প্রতি বছর এই সময়ে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা এসে গরু-ছাগলের দরদাম ঠিক করে বায়না দিতেন। এ অবস্থায় গরু-ছাগল বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। একই সঙ্গে খামারে বিনিয়োগ করা অর্থ তুলে আনা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তারা। তবে করিমগঞ্জ উপজেলার বৃহৎ খামার মালিক এরশাদ উদ্দিন জানান, তার খামারে ইতোমধ্যে বেশ কিছু ক্রেতা ও পাইকাররা যোগাযোগ করেছেন। কঠোর লকডাউনের কারণে উৎসাহী লোকজন আসতে পারছে না। তবে তিনি আশাবাদী।

বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আজমল খান বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে গবাদি পশু কেমন বিক্রি হবে তা নিয়ে ক্ষুদ্র খামারিরা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। আবার গবাদি পশুর চাহিদাও কম। সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম জানান, খামারিদের ওপর করোনার প্রভাব খুব একটা পড়বে না। আশা করা যাচ্ছে তারা লাভবান হবেন।

পূর্ববর্তী সংবাদকটিয়াদীতে করোনা প্রতিরোধে প্রচারাভিযান ও মাস্ক বিতরণ
পরবর্তী সংবাদএলপিএলে খেলতে পারবেন না সাকিব-তামিমরা

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন