কুলিয়ারচরে পূজামন্ডপ গুলোতে রং-তুলির আচরে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ প্রস্তুতি

0
37

সর্বশেষ আপডেট অক্টোবর ৭, ২০২১ | ইমরান

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ:

শান্তি, সাম্য আর ভ্রাতৃত্বের অমর বাণী শোনাতে প্রতি বছর শারদীয় উৎসবে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যে আসেন দুর্গতিনাশিনী মহামায়া মা দুর্গা। ভক্তদের ডাকে সাড়া দিয়ে একবছর পরে মা আসছেন। ধর্মের গ্লানি আর অধর্ম রোধ, সাধুদের রক্ষা, অসুরদের বধ আর ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিবছর দুগর্তিনাশিনী দেবী দুর্গা ভক্তদের মাঝে আবির্ভূত হন।

শারদীয় দূর্গোৎসবের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। এরই মধ্যে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় ৩৪ টি পূজামন্ডপে শেষ মুহুর্তে মাটির কাজ শেষে এখন চলছে প্রতিমা শিল্পীতের রং-তুলির আচর ও সাজসজ্জা। যেন দম ফেলার ফুসরত নেই মৃৎশিল্পীদের । গভীর রাত পর্যন্ত চলছে দোমাটি ও রং-তুলির কাজ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গোৎসব। তাই শান্তিপূর্ণ ভাবে উৎসব পালন করার জন্যে এরই মধ্যে প্রশাসন কয়েক স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইতোমধ্যেই প্রতিটি পূজামন্ডপে মাটির কাজ শেষ করে রং-তুলির কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন মৃৎশিল্পীরা। ইতোমধ্যে আনন্দ ঘন ও প্রাণবন্ত পরিবেশে চলছে কারিগরি শিল্প নৈপুন্য। শিল্পীদের দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় পূর্ণরূপে ফোটে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন অধিকাংশ প্রতিমা। পাশাপশি মন্দির কমিটির উদ্যোগে চলছে প্যান্ডেল, গেইট, তোরণ, আলোকসজ্জা ও বিভিন্ন ধরনের সাজসজ্জার কাজ। একেক মন্দিরে একেক আঙ্গিকে সাজানো হচ্ছে প্রতিমা। যার যেমন সাধ্য সেই সাধ্য অনুযায়ী চলছে সাজসজ্জা। পূজা শান্তিপূর্ণ করতে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালিকা তৈরি করে চলছে নিরাপত্তার ব্যবস্থা ও অনুদান বরাদ্দের কাজ। পূজা মন্ডপগুলোতে কয়েক স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে প্রতি বছর আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকলেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সারা বিশ্বের ন্যায় এ উপজেলায় সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখেই পালন করা হবে দুর্গোৎসব।

জানা যায়, এ বছর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৩৪ টি মন্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে পৌর এলাকায় ১২টি, গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে ১টি, রামদী ইউনিয়নে ৫টি, উছমানপুর ইউনিয়নে ৩টি, ছয়সূতী ইউনিয়নে ৩টি, সালুয়া ইউনিয়নে ৮টি ও ফরিদপুর ইউনিয়নে ২টি দূর্গা মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত বারের তুলনায় এবার ২টি প্রতিমা বেশী হচ্ছে।

আগামী ১১ অক্টোবর সোমবার পঞ্চমী তিথিতে মা দুর্গাদেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে ঢাক-ঢোল, কাঁশি, বাঁশি বাজিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং ১৫ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জ্জনের মধ্য দিয়ে দূর্গ উৎসব সমাপ্ত হবে। দূর্গ উৎসবকে ঘিরে শিশির ভেজা দুর্বাঘাসের উপর ঝরেপড়া বকুল ফুল কুড়ানোর সময়টাতে মাতৃবন্ধনায় মিলিত হবেন মাতৃভক্ত সবাই।

এদিকে আসন্ন দুর্গোৎসবকে ঘিরে উপজেলার জনপদে আনন্দের হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। হিন্দু ধর্মালম্বীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন বৃহৎ এ দুর্গা উৎসব পালনের। ইতোমধ্যে হিন্দু ধর্মালম্বীদের ঘরে ঘরে নতুন জামা-কাপড়সহ ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র কেনা-কাটা শুরু করে দিয়েছেন। কেউ আবার অগ্রিম শুভেচ্ছাসহ নিমন্ত্রণ দেয়ার কাজও শুরু করে দিয়েছেন।

উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি এ্যাড. মনমথ চন্দ্র দাস ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নন্দলাল দাস জানিয়েছেন, গতবারের তুলনায় এবার ২টি পূজা বেশী অনুষ্ঠিত হবে। এখন পর্যন্ত উপজেলার কোন মন্ডপে অপ্রীতিকর কোন ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সর্বত্রই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে যে সমস্ত মন্ডপগুলিতে লোক সমাগম বেশী হবে এবং বাজার কেন্দ্রীক সেগুলিকে অতিগুরুত্বের সাথে দেখার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহবান জানান তারা।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, গত ৪ অক্টোবর সোমবার বিকালে থানা হলরুমে প্রতিটি মন্ডপের সভাপতি-সম্পাদক সহ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটি সভাপতি- সম্পাদকদের সাথে মত বিনিময় করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ইতোমধ্যে এলাকায় পুলিশী টহল জোরদার এবং মন্ডপগুলোতে নজরদারীর বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি মন্ডপ কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীকে মন্ডপ পাহারা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

পূর্ববর্তী সংবাদমুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
পরবর্তী সংবাদ১৭ মার্চের পর দেশে করোনায় সর্বনিম্ন মৃত্যু

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন