Wednesday, December 2News That Matters
Shadow

তাড়াইলে পীরের আস্তানায় খাদেমের মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু

ন্যাশনাল ডেস্ক : কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় তালজাঙ্গা ইউনিয়নের দেওথান এলাকায় দেওথানের পীরের আস্তানায় মাইসা (৭) নামে এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার তালজাঙ্গা ইউনিয়নের দেওথান এলাকায় লুৎফর রহমান পীরের আস্তানায় একটি ঘরের ভেতর জানালার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। ‘মাইসা’ তাড়াইল উপজেলার রাউতি ইউনিয়নের মৌগাঁও গ্রামের মানিক মিয়ার মেয়ে। মাইসার বাবা মানিক মিয়া ওই পীর লুৎফর রহমান এঁর খাদেম বলে জানা যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তাড়াইল উপজেলার রাউতির প্রয়াত পীর বারী শাহ্ এঁর দরগাহ্-র সামনে দীর্ঘদিন ধরে আস্তানা তৈরি করে পীরের দায়িত্বে রয়েছেন তাঁর-ই মুরিদ লুৎফর রহমান। তাঁর আস্তানায় বিভিন্ন এলাকার মুরিদানগণ বসবাস করেন। দরগাহ্-র খাদেম মানিক মিয়া স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে ওই পীরের দরগাহ্-তে থাকতেন।

দরগাহ্ কর্তৃপক্ষ ও মাইসার বাবা-মায়ের দাবি, দরগাহ্-র ভেতর একটি খালি কক্ষে মাইসাসহ দুই শিশু খেলাধুলা করছিল। মাইসা বউ সাঁজতে গিয়ে জানালার সঙ্গে একটি ওড়না বেঁধে এর এক পাশ গলায় জড়ায়। এ সময় সে পা পিছলে চৌকি থেকে পড়ে গেলে গলায় ফাঁস লেগে যায়। খবর পেয়ে শিশুটির বাবা-মা তাকে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মাইসাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি হাসপাতাল থেকে তাড়াইল থানা পুলিশকে জানানোর পর তাড়াইল থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান পুলিশের ব্যবস্থাপনায় শিশুটির (মাইসা) মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠান। এ ব্যাপারে দেওথানের পীর লুৎফর রহমানের বক্তব্য জানা যায়নি। এ ঘটনায় তাড়াইল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে তাড়াইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে খেলা করার সময় ফাঁস লেগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে- শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের পর শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

Please follow and like us:
error20
Tweet 20
fb-share-icon20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *