Monday, September 28News That Matters
Shadow

বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা পাকিস্তানি মিডিয়ায়

বাংলাদেশের অর্থনীতির ভূয়সী প্রশংসা করে পাকিস্তানি একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকে নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে। দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল সংবাদ মাধ্যমে শনিবার প্রকাশিত ওই নিবন্ধে পাকিস্তানের অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির তুলনা করা হয়।

নিবন্ধে পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনীতি ও সামাজিক অবস্থান এবং তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে দারিদ্র্য হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

এতে বলা হয়, দুই দশক আগেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন মাথাপিছু আয় এবং মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) স্বল্প প্রবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হত।

বর্তমানে পাকিস্তানের চেয়েও বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেশি। ভারতের পর বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হল বাংলাদেশ।

নিবন্ধে বলা হয়, দুই বছর ধরে সংঘাতকবলিত আফগানিস্তানের চেয়েও পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় কমছে। দেশটির বেশিরভাগ সরকারি বিদ্যালয়ে নিম্নমানের শিক্ষা দেয়া হয়। যেগুলো কেবল দরিদ্রদের শিক্ষা প্রদান করে।এর মাধ্যমে বৈষম্যমূলক দুটি পৃথক সমাজ তৈরি করা হচ্ছে।

এ অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষায় তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে। পাকিস্তানে সেই সংখ্যা সবচেয়ে কম।
শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার হার সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানে।

ওই নিবন্ধে দাবি করা হয়, বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তানের ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিকেল কর্মী এবং পাশাপাশি সরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালের সংখ্যা বেশি। তারপরেও পাকিস্তানিদের চেয়ে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু তিন বছর বেশি। এ ছাড়া বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর হার পাকিস্তানের তুলনায় অর্ধেক।

এ ছাড়া বাংলাদেশ একটি পোলিওমুক্ত দেশ। বিশ্বের যে দুটি দেশে এখনও পোলিও রোগটি রয়েছে। তার মধ্যে পাকিস্তান একটি। সম্প্রতি ডব্লিউএইচও নাইজেরিয়াকেও পোলিওমুক্ত ঘোষণা করেছে। পাকিস্তানের সরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের মান খারাপ। ফলে দ্রুত ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বেসরকারি খাতে স্বাস্থ্যসেবা।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সামাজিক অগ্রগতির সঙ্গে অর্থনৈতিক নৈরাশার সংমিশ্র ঘটিয়েছে। এ অঞ্চলের যে কোনো দেশের চেয়ে নারীদের মর্যাদা উন্নয়ন ও অধিকার সংরক্ষণে সবচেয়ে বেশি প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ।

নারীদের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে নিবন্ধে বলা হয়, ক্ষুদ্রঋণ দেয়া হয় মূলত নারীদের। এ ছাড়া সফলভাবে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি পরিচালনা করছে বাংলাদেশ। এতে শুধু শিশু মৃত্যুহারই কমেনি, বেড়েছে নারীর মর্যাদাও।

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নারীদের পারিবারিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, পরিবারের মধ্যে নারী সদস্যদের ভূমিকা আরও বেড়েছে। পরিবারের আকার কেমন হবে তার নিয়ন্ত্রণও এখন বাংলাদেশের নারীদের হাতে। এদিকে পাকিস্তান শুধু মুখে মুখে লিঙ্গ সমতার কথা বলছে। এ ছাড়া এ অঞ্চলে পাকিস্তানেই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ।

ইসলামাবাদের সঙ্গে ঢাকার নারী শ্রমিকদের কাজের তুলনা করে বলা হয়, নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের উত্থান শুরু হয়। ওই সব প্রতিষ্ঠানে যেসব শ্রমিক কাজ করেন তাদের ৮০ শতাংশই নারী। এতে দেশটিতে নারীদের মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গে আয়ও বেড়েছে। বাংলাদেশে পুরুষদের চেয়ে নারীরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাবার ও শিশুর কল্যাণে বেশি ব্যয় করে। পাকিস্তানের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বেসরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশে সরকার ছাড়াও বড় বড় বেসরকারি সংস্থাগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে পাকিস্তানে দারিদ্র্য বিমোচনের সবচেয়ে বড় কর্মসূচিগুলো পরিচালিত হয় বেনজির ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম, এহসাস আর পাকিস্তান দারিদ্র্য বিমোচন তহবিলের মাধ্যমে।

এক দশক আগে বাংলাদেশের সামাজিক সাফল্য তার অর্থনৈতিক সাফল্যের চেয়ে বেশি ছিল। সামাজিক ক্ষেত্রের ব্যয়ের কারণে তৈরি হওয়া মানবসম্পদ সেই দেশকে এখন টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে ধাবিত করছে।

দারিদ্র্য বিমোচনে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন তাতে সন্দেহ নেই কিন্তু দুই দশক আগেও যা তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশের মতো একটি দেশ প্রমাণ করেছে যে, অনেক প্রবৃদ্ধির জন্য অপেক্ষার প্রয়োজন নেই। শুধু দরকার গৃহীত নীতির প্রতি আস্থা রেখে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার মনোভাব।

Please follow and like us:
error20
Tweet 20
fb-share-icon20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *