Sunday, October 25News That Matters
Shadow

সতর্ক হোন, ধেয়ে আসছে কঠিন দু:সময়…

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস সমগ্র বিশ্ব সভ্যতাকে করে দিয়েছে লন্ডভন্ড। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশ ও অঞ্চলে এ ভীষণ বিপজ্জনক ভাইরাসটি সংক্রমন ছড়িয়ে তান্ডব চালাচ্ছে। আক্রান্ত করেছে প্রায় ২৬ লাখ মানুষকে, মৃত্যু ঘটিয়েছে প্রায় এক লাখ ৭৭ হাজার প্রাণের। তবে চরম বিপর্যয় আসতে এখনও বাকী বলে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশের সামনে ধেয়ে আসছে চরম দু:সময়। এটা এমন এক ভাইরাস যা এখনও মানুষ বুঝতেই পারছে না। এর সংক্রমণ এদেশে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে আরো সময় লাগবে। ভাইরাসটি কয়েকটি ধাপে বিস্তার ঘটিয়ে বিভিন্ন দেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছার পর আবার ধাপে ধাপে সংক্রমণ কমে আসে।
প্রথম সংক্রমণ শুরুর পর ৪০ দিনে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে শুধুমাত্র ইতালি ও স্পেনে। কিন্তু মৃত্যুহারে ইতালির পরই বাংলাদেশের অবস্থান। ধ্বংসাত্মক ভাইরাসটি যে হারে আমাদের দেশে ছড়িয়ে পড়ছে তার তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা করে আইইডিসিআর এবং বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন এ হারে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে মে মাসের শেষ থেকে জুন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
আমাদের ঘনবসতিপূর্ণ এ দেশের ভয়াবহ সমস্যা আমাদের আবেগী জনগন এবং সর্বত্র অব্যবস্থাপনা। সারাদেশের মানুষ নিজের ইচ্ছেমতো কারনে-অকারনে বাহিরে ঘোরাঘুরি করছে, মানছে না স্বাস্থ্য নির্দেশনা। ধর্মীয় গোড়ামী অথবা অজ্ঞতার বশে একে পরোয়া করছে না, হাজারো মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণ করছে, বাজার করছে ও জটলা করে আড্ডা মারছে অথবা অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছে। সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনাও মানা হচ্ছে না।
স্বাস্থ্য বিভাগের দূর্বলতা ও অব্যবস্থাপনায় প্রথমে আইইডিসিআর এককভাবে নমুনা পরীক্ষার কারণে ফলাফল পেতে বিলম্ব এবং নমুনা পরীক্ষাও হয়েছে কম। এখনও যে পরিমাণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে তাতে সংক্রমণের সঠিক চিত্র আসছে না। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণে অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা ভয়ংকরভাবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। দক্ষ ও পেশাধারী স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব প্রবলভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। সঠিক মানের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের অপ্রতুলতা, রোগীর বহুল ঘনত্ব এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতা মিলিয়ে করোনা মোকাবেলা করা বাংলাদেশের জন্য বেশ কঠিন হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।
জনগনের প্রতি প্রতিরোধমূলক সকল স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার, জাতিসংঘ, নাগরিক সমাজের সচেতনতা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রয়াসেই বাংলাদেশ এ মহামারি কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে পারবে।
এ পরিস্থিতি বলছে, সামনে আমাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ অতি ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, যা হয়তো আমাদের কল্পনাকেও হার মানাতে পারে। সুতরাং অনেক সময় পেরিয়ে গেছে, এখনই সর্বোচ্চ সতর্ক হোন। সচেতন মনোবল নিয়ে ঘরে থাকুন, ইতিবাচক থাকুন।
আমাদের আছে একজন সাহসী ও মানবিক রাষ্ট্রনায়ক, বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ম শেখ হাসিনা।
সর্বোপরি, সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করুন। নিশ্চয়ই তিনি অতি দয়ালু এবং ক্ষমাশীল।

 

রাসেদুল মাহমুদ রাসেল

রাজনীতিবিদ ও সমাজ কর্মী
পরিচালক, পরিচালনা পর্ষদ

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি:

Please follow and like us:
error20
Tweet 20
fb-share-icon20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *