Monday, September 28News That Matters
Shadow

কিশোরগঞ্জে বোরো চাষে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে কৃষকরা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জে বোরো চাষে এখন ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন জেলার কৃষকরা। হাওর বাঁওড় আর ধান এই তিন কিশোরগঞ্জের প্রাণ। জেলার হাওর অঞ্চলসহ এখন চলছে বোরো আবাদের ধুম। তীব্র শীত উপেক্ষা করে কৃষক কোমর বেঁধে জমিতে নেমেছেন। গোটা হাওর ও উজানের জনপদে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি কৃষকের কর্মচাঞ্চল্য। সবুজ ধানের চারায় সবুজ করে তুলছেন হাওরের পর হাওর।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী-এ চারটি উপজেলা সম্পূর্ণ হাওর অধ্যুষিত। এছাড়াও বাজিতপুর,করিমগঞ্জ,তাড়াইলের কিছু অংশে হাওর অধ্যুষিত উপজেলা গুলোর মধ্যে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ হেক্টর। এরই মধ্যে ৫৪ হাজার ৫২ হেক্টর আবাদ করা হয়েছে। অন্যদিকে হাওর বহিভর্িূত উজান এলাকায় ৫২ হাজার ৭৬ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ নিয়ে জেলায় সর্বমোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬ শত ৭৬ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
হাওর অঞ্চলের দরিদ্র এবং প্রান্তিক চাষিরা ঋণ ও দাদন নিয়ে যে ফসল ফলান তার সিংহ ভাগ চলে যায় দায় মেটাতে। ফলে ফসল তোলার মাস দুয়েকের মধ্যেই দরিদ্র, প্রান্তিক চাষি ও কৃষকের গোলা শূন্য হয়ে যায়। শ্রমবিক্রি এবং ধার কর্জ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হয়। তবে কৃষক আশা করছেন, আবহাওয়া যেন অনুকূল থাকে তাহলেই ধানের বাম্পার ফলন হবে। তখন ধানের হাসিতে ধারদেনা আর কৃষি উপকরণের সংকট ভুলে হাসতে পারবেন কৃষক।
সূত্র জানায়, জেলার ১৩টি উপজেলার সবক’টিতেই বোরো আবাদ হলেও ভূপ্রাকৃতিক কারণে হাওর অধ্যুষিত ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম এবং নিকলী উপজেলায় সর্বাধিক পরিমাণ বোরো ধান উৎপাদিত হয়। এলাকার অধিবাসীদের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এ বোরো ফসল। তাই এখানকার কৃষক নিজেকে উজাড় করে দেন বোরো আবাদে। বাম্পার ফলনের সম্ভাবনার মধ্যেও কৃষককে ফসল ঘরে না তোলা পর্যন্ত আতঙ্কে থাকতে হয়। আগাম বন্যা আর পাহাড়ি ঢলে প্রায় সময়েই মাঠভর্তি কৃষকের সোনালি ধান তলিয়ে যায়। এতো ঝুঁকির মাঝেও এখন হাওরের মাঠে সরব পদচারণায় মুখর কৃষকের একটাই চিন্তা, একখন্ড জমিও যেন কোনো অবস্থাতেই পতিত না থাকে।
কৃষকরা বলছেন, প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এ মওসুমে ইরি-বোরো ফসলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক) ড. মোহিত কুমার দে এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, জেলায় এখন পর্যন্ত বৃষ্টি বা ঠান্ডা জনিত কারণে শীতকালীন সময়েও বোরো আবাদে ভাটা পড়েনি। ধানী চারা উৎপাদন করে এখন বোরো চাষে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন জেলার কৃষকরা। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবং কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে কৃষকের জমিতে বাম্বার ফলনের আশা করছি।

Please follow and like us:
error20
Tweet 20
fb-share-icon20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *